“সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য”
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট
BANGLADESH ISLAMI FRONT
(নিবন্ধন নং-০৩৫)
কেন্দ্রীয় স্থায়ী কার্যালয়
ড্রিম আবুল হোসেন টাওয়ার (৪র্থ তলা) ২০৭, ফকিরাপুল ১নং গলি, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান, বিবেক-বুদ্ধি এবং সুস্থ চিন্তার মাধ্যমেই মানুষ এ মর্যাদায় অভিষিক্ত, নতুবা আল্লাহ তা’আলার ভাষায়, মানুষ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। তাই মানুষ হিসেবে জীবনকে কামিয়াব করতে হলে ভাবতে হবে তিনটি অবস্থা: কোথায় ছিলাম? কোথায় আছি? পরিশেষে কোথায় যাবো? এ তিন ভাবনার মাধ্যমে মানসপটে প্রবলবেগে আন্দোলিত হবে সেই মহান সত্ত্বা রব তা’আলার কথা, যিনি সার্বিক বিষয়েই আইনদাতা। অতএব, সেই মহান মালিকের ইহসান ঘেরা পরিবেশে লালিত হয়ে তাঁরই প্রদত্ত বিধান অমান্য করা আমাদের জন্য কি বৈধ? রব তা’আলার ভাষায় ‘আল্লাহ’ ও তাঁর রাসূল() কোনো বিষয়ে ফয়সালা দেয়ার পর সে বিষয়ে কোনো মু’মিন পুরুষ ও নারীর ভিন্ন ইখতিয়ার নেই। (সূরা আহযাব)
রাব্বুল আলামীনের একমাত্র মনোনীত পথ ও মত ইসলাম। ইসলামই মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে আরম্ভ করে রাষ্ট্রীয় জীবন তথা ইহ ও পরকালীন যাবতীয় বিষয়ে একটি বাস্তবধর্মী দিক-নির্দেশনা দিতে সক্ষম হয়েছে। আজকের এ আণবিক যুগেও যখন সকল মানবগড়া মতবাদ ব্যর্থতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে, তখনও ইসলাম আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র কায়েম এবং শান্তিময় পৃথিবী গড়তে ইসলাম আজও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।
ইসলামের নামে সারা বিশ্বে আজকে নানা গোমরাহ ফিরক্বার জন্ম হয়েছে। এরা ইসলামের মূল আকীদা ও আদর্শ হতে বিচ্যুত। খারেজী হতে শুরু করে শিয়া, তাবলিগী, ওহাবী, কাদিয়ানী এবং মওদুদীবাদ পর্যন্ত প্রত্যেকটিই গোমরাহীর এক একটি অন্ধকার কুয়া। অতএব এদের থেকে সাবধান। এরা ধর্মীয় ক্ষেত্রে যেমন মানুষকে পথভ্রান্ত করে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তারা ইসলামের বদনাম ডেকে আনছে। কারণ, তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ভিত তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা আত তথা সুন্নিয়তই মুক্তির মহাপথ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের মধ্য দিয়েই মুক্তির এ মহাপথে চলা সম্ভব। এ পর্যায়ে আল্লাহ্ তা আলার ইরশাদ হচ্ছে- “আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’আ-লা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা গ্রহণ কর। আর যা হতে বারণ করেছেন তা হতে বিরত থাকো” (সূরা হাশর)। বস্তুতঃ এটিই সুন্নিয়ত।
আর এটিই মুক্তির একমাত্র পথ। যুগে যুগে হকপন্থীগণ এ পথ ও মতের উপর থেকেই মুক্তির বিজয় কেতন উড়িয়েছেন। তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতই সিরাতুল মুস্তাকীম হিসেবে স্বীকৃত। আর এ সিরাতুল মুস্তাকীমকে ধারণ করেই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আদর্শ, উদ্দেশ্য, নীতিমালা এবং সার্বিক কর্মসূচী প্রণীত।
মানবগড়া মতবাদ ভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আমাদের আদর্শিক ব্যবধান তো দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। এমনকি সুন্নী আক্বিদা বিবর্জিত ইসলামী দলগুলোর সাথেও আমাদের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। যেহেতু বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ইসলামের অবিকৃত রূপ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের আকীদা ও আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত একমাত্র দল, সেহেতু ইসলামের নামে ভ্রান্ত দলগুলোর সাথে আমাদের সংগঠনের আদর্শিক পার্থক্যও সুস্পষ্ট। আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি, ইসলামের প্রকৃত আদর্শকে বাস্তবায়িত করা গেলেই খোলাফায়ে রাশেদীনের স্বর্ণযুগের মতো আমাদের দেশও একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টও এ পথে দ্রুত এগুচ্ছে।
আপনিও অবশ্যই চান এ মহান আদর্শের বিজয় হোক। তাহলে আপনাকেও এক সুকঠিন আন্দোলনের পথে এগুতে হবে। আবার এ বিজয় প্রাপ্তির পরও সেটার সংরক্ষণের প্রশ্ন থেকে যায়। কিন্তু এ বিশাল কর্মসূচী কারো একার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন দলবদ্ধতা ও সুদৃঢ় ঐক্যের। এটা একটা মজবুত দলের মাধ্যমেই একমাত্র সম্ভব। কারণ সংগঠনের অনুপস্থিতি মানেই বিচ্ছিন্নতা। আর বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো শক্তি নিয়ে কোনদিন কোন আদর্শের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সাংগঠনিক শক্তির উপর ইসলাম অত্যাধিক জোর দিয়েছে। প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামা’আত বা দল হতে এক ইঞ্চি পরিমাণও পৃথক হয়েছে, সে যেন ইসলামের রশিকে স্বীয় গলদেশ হতে তুলে দিয়েছে।’ বস্তুতঃ সংগঠন ব্যতিরেকে কোনো আদর্শ এবং বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়। বরঞ্চ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তর, অতঃপর তাকে রাষ্ট্রীয় শক্তিতে উপনীত করার মধ্য দিয়েই যে কোনো আদর্শের সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব। এ দ্বীনি পবিত্র দায়িত্ব পালনের দীপ্ত শপথ নিয়েই ১৯৯০ সালের ২১ শে ডিসেম্বর মোতাবেক ৩রা জমাদিউস সানি ১৪১১ হিজরী আমাদের প্রাণপ্রিয় দল ‘বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’ এর প্রতিষ্ঠা।
মহান রাব্বুল আলামীন গোটা সৃষ্টির খালিক ও মালিক। তিনি একক, লা-শরিক আল্লাহ। তাঁরই প্রদত্ত আইন বাস্তবায়নে আমরা আদিষ্ট। যুগে যুগে আবির্ভূত সকল নবী রাসুল নিষ্পাপ, সকল ধরণের সমালোচনার ঊর্ধ্বে এবং তাঁরাই মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠতম আদর্শ। আমাদের নূরনবী রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীকূল শিরোমণি, আল্লাহর প্রিয়তম হাবীব। আল্লাহর পর তাঁর সুমহান অবস্থান। সৃষ্টির মধ্যে তিনি জাত এবং সিফাত উভয় দিক হতেই বে-মেছাল।
সর্বক্ষেত্রে তিনি সর্বোত্তম আদর্শ, ‘উসওয়া-ই হাসনাহ’। তারপর সাহাবা, তাবে’ঈন, তাবা’ঈ তাবে’ঈন, আউলিয়া-ই কামেলীন প্রিয় নবী-ই করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই পরিপূর্ণ উত্তরসূরী এবং আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। ইসলামই সর্বকালের সকল সমস্যার সমাধানে একমাত্র বিজয়ী দ্বীন বা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
রাজনীতি বিজ্ঞানের ভাষায় রাজনীতি হচ্ছে সমাজ সেবার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। কিন্তু নিছক ক্ষমতা এবং স্বার্থ হাসিলের রাজনীতি আজকের রাজনীতির অঙ্গনকে করেছে কলুষিত। জাহিলিয়াতের বর্বরতা আর দলীয় উন্মাদনা তাড়িত রাজনীতির কাছে গোটা জাতি আজকে জিম্মি। সমাজ সংস্কারের স্থলে সমাজ সংহারই আজকের রাজনীতির বীভৎস রূপ। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট রাজনীতিকে সমাজ সেবা এবং দ্বীন কায়েমের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে ইসলামী আদর্শের অনুসারীদের এমন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহী, যেখানে থাকবে না শঠ এবং ধাপ্পাবাজদের আনাগোনা, প্রতিষ্ঠিত হবে নেক্কার বান্দাদের আধিপত্য। সকল ধর্মের লোকদের যথাযথ সামাজিক অধিকারও।
গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনও সুদূর পরাহত। ভ্রান্তনীতি এবং ভারসাম্যহীন ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ের অতলগর্তে নিমজ্জিত। দেশকে অর্থনৈতিক সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে ইসলামী অর্থনৈতিক নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় অর্থ ব্যবস্থাকে জীবনের সকল উপাদানের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে। ইসলামে অর্থনীতির দর্শন ও বিধানে যে পথনির্দেশ দেয়া আছে, তাতে পুঁজিবাদের ন্যায় অর্থনীতিকে মুনাফা-আশ্রয়ী কিংবা সমাজতন্ত্রের ন্যায় অর্থনীতির উপর রাষ্ট্রীয় সর্বাত্মক অধিকার বলবৎ করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। একচেটিয়া পুঁজিবাদ জগতকে মহামন্দার কবলে নিক্ষেপ করলে এক্ষেত্রে সম্পদের সুষম বণ্টন ও জনগণের কল্যাণ সাধনই ইসলামী অর্থনীতির মূল দর্শন। উল্লেখ্য যে, সময়ের প্রেক্ষিতে জনগণের চাহিদা অনুসারে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি এবং দেশে বিরাজমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে জনকল্যাণমূলক অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কিতাবুল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ()’র সুন্নাহর সাথে সাথে ইজতিহাদ, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করার সুযোগ ইসলামী অর্থনীতিতে রয়েছে। ইসলাম কেবল যে সামাজিক সাম্য, ন্যায় বিচার ও সুষ্ঠু পারিবারিক জীবন উপহার দিয়েছে তাই নয়, বরঞ্চ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনৈতিক সংস্কারক নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার অমানবিক পেশা, কুৎসিত উপজীবিকা, অমানবিক সুদ ও অবৈধ উপার্জনকে হারাম-নিষিদ্ধ করে কল্যাণমুখী, উদার ও মানবিক অর্থ ব্যবস্থারও প্রবর্তন করেছেন। এই অর্থ ব্যবস্থাকে অনুসরণ করেই বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণীত।
হে নবী প্রেমিক মুসলিম ভাইয়েরা! মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত। হ্যাঁ, এ পথ ধরেই আমাদের অভিযাত্রা। মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি বিধানে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতএব, আসুন আপনিও ‘বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের’ পতাকাতলে সমবেত হয়ে সুন্নিয়তের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার আন্দোলনে শরীক হোন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাওফীক দিন। আমীন।
দলের গোলাকৃতির লোগোর উপরিভাগে আরবি হরফে “ক্বাদ জা—আকুম মিনাল্লা-হি নূর” আয়াতাংশ এবং নিম্নাংশে “বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট” লেখা রয়েছে। লোগোর মাঝখানে বাংলাদেশের মানচিত্র এবং দলীয় নির্বাচনী প্রতীক মোমবাতি অঙ্কিত।
দলীয় পতাকার আকার ৩:২ অনুপাতে — এক-চতুর্থাংশ আড়াআড়ি সবুজ এবং তিন-চতুর্থাংশ লম্বালম্বি কালো রঙের, যার কালো অংশের উপর সাদা অক্ষরে কালেমায়ে তাইয়্যেবা অঙ্কিত থাকে।